রাজধানীর মিরপুরে শিকড় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নেভানো হয়েছে। চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে আগুন লাগে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক ধারণা তাঁদের।
এ ছাড়া মিরপুর-১ আনসার ক্যাম্প এলাকায় একই সময়ে অভিজাত পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নেভানো হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া, রাত আটটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গাড়ির একটি গ্যারেজের সামনে আরেকটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বলছে, বাসটি আলিফ পরিবহনের। রাস্তার পাশে বাসটি পার্কিং করা ছিল। কে বা কারা পেছনের দিকে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে। উপস্থিত লোকজন সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভায়।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। আর রাত ১১টার দিকে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে ২টি এবং রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা কলেজের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও কে বা কারা জড়িত, তা এখনো পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।
গতকালের এসব ককটেল বিস্ফোরণের পর নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও নজরদারি।