নিজস্ব প্রতিবেদক ::
ডক্টর আনোয়ারুল করীম (২৩ অক্টোবর ১৯৩৯ – ৩১ মে ২০২৫) বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লোকবিজ্ঞানী। ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের যশোর জেলার লাউড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম। কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় কুষ্টিয়ায় কাটিয়েছেন এবং শহরের মঙ্গলবাড়িয়ায় স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন।
কুষ্টিয়া কলেজে উচ্চশিক্ষার সূচনা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বছর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকাস্থ নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৩ সালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লালন লোকসাহিত্য কেন্দ্র, যা পরবর্তীকালে লালন একাডেমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি–মার্চে কুষ্টিয়ায় স্বাধীন বাংলা সাহিত্যিক ও শিল্পী সংগ্রাম পরিষদ গঠনেও তিনি নেতৃত্ব দেন এবং সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
লালন শাহ ও বাউল দর্শন নিয়ে গবেষণায় আনোয়ারুল করীমের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৮ সালের ৪ মে দৈনিক ইত্তেফাকে তাঁর ‘বাউল কবি লালন শাহ’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। একই শিরোনামে ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আরেকটি রচনার দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয় ১৯৬৬ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নীলিমা ইব্রাহিমের তত্ত্বাবধানে তিনি ‘বাউল: একটি অধ্যাত্মবাদী সাধনা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ রচনা করেন। এ গবেষণার জন্য ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বাউলবিষয়ক গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জনকারী প্রথম গবেষক হিসেবে তিনি বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থ The Bauls of Bangladesh। লালন শাহকে নিয়েও তিনি উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেছেন। কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম নিয়েও গ্রন্থ রচনা করেছেন। লালন শাহ এর জীবন ও দর্শন নিয়ে তিনি এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপে বহু-সংখ্যক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে পেপার প্রেজেন্ট করেছেন।
বাউলতত্ত্ব, লালন-দর্শন ও বাংলার লোকজ সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর গবেষণা বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গিয়েছেন। ড. আনোয়ারুল করীম ২০২৫ সালের ৩১ মে মৃত্যুবরণ করেণ।