গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুননবী টিটুলের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ও তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি বরাবর পাঠানো চিঠিতে তিনি এ অনুরোধ জানান। চিঠিতে গাইবান্ধা সফরকালে সার্কিট হাউসে একজন নেতার পরিচয় স্পষ্ট না করে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানোর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকনসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে জেলার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য মমতা আলো আহাম্মেদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় আমি পাশে উপস্থিত ছিলাম। সেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। অধ্যক্ষ সেখানে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।

তিনি আরো বলেন, কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে আমার বাবা রুস্তম আলী মোল্লা অন্যতম। নদী ভাঙন কবলিত ওই এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়ালেখা করেন। সেসব বিবেচনায় নিয়ে আমি কলেজটি জাতীয়করণের জন্য সংসদ সদস্যকে অনুরোধ করি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের আমি লিখিত জবাব দিব।
এ বিষয়ে জানতে গাইবান্ধার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এটিএম রাশেদুজ্জামান রোকন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ফুলছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ রাতে গাইবান্ধা জেলা শহরের হকার্স মার্কেট এলাকা থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর আওতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যুবলীগের এমন একজন নেতার সঙ্গে বিএনপির সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছবি ঘিরে তুমুল আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ চিঠি দেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য মমতাজ আলো আহমেদ।