নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মজবুত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘এই সম্পর্ক কেবল মানুষে-মানুষে যোগাযোগের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা উন্নয়ন অংশীদারিত্বের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘পাওয়ারিং বাংলাদেশ’স নেক্সট গ্রোথ চ্যাপ্টার: আ পাথওয়ে টু এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষা, পর্যটন এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় হয়ে উঠেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের মধ্যে একটি মজবুত সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক জীবনধারাকে সংযুক্ত করেছে।

বর্তমানে ৫০টিরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছে। একইভাবে মার্কিন পণ্য আমদানিতেও চাহিদা বাড়ছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাইরে জ্বালানি খাতেও শেভরন ও এক্সিলারেট এনার্জির মতো মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে সফল অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আরও ব্যাপক পরিসরে গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছে, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বিনিয়োগের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের রূপকল্প অনুযায়ী অর্থনৈতিক সুফল তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে মাস্টারকার্ড বা ভিসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব। এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আন্তরিক ও গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিস শু শিয়াং।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাশরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জিই ভার্নোভার এশিয়া অঞ্চলের জিএম সারতাজ ভূঁইয়া, এক্সিলারেট এনার্জির কান্ট্রি ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, বিএসআরএম গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমীর আলি হোসেন এবং বুয়েটের প্রকৌশল অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।

সেমিনার শেষে উপদেষ্টা মাহদী আমিন ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬’-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন