আবির হাসান, নিশীথ সাহা,শাহজাজন শাহ, শ্রাবন্তি রহমান ও রিয়া জান্নাতির যৌথ প্রতিবেদন ::
চোখে চশমা হাতে ফেবারলোবা ঘড়ি কি নেই সাথে পৃথিবীর সেবাপ্রযুক্তির মোবাইল গোটা তিনেক। আর আছে দামী ব্র্যান্ডেরগাড়ি, অভিজাত ফ্ল্যাট আর বাড়ি সঙ্গে থাকে সোসাইটি গার্ল সুন্দরী নারী। জানাচ্ছি প্রধামনমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার পরিচয় দেয়া মহান ব্যক্তিত্ব বেলায়েত হোসেনের কথা। নিজেকে পরিচয় দেন পিএমও অফিসের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে। কিন্তু পরিচয়টি আসলে ভুয়া। আর এই ভুয়া পিএমও অফিসের মেডিক্যাল অফিসার তিনি কিভাবে হলেন, তার অনুসন্ধান করতে গিয়েই বেড়িয়ে এসেছে থলের বিড়াল। পিএমও অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ! এই আলাউদ্দিনের চ্যারাগ ঘষেই তিনি গড়েছেন, কয়েকশ কোটি টাকা আর গাড়ি-বাড়ি আর ফ্ল্যাট-প্লটসহ সম্পদের পাহাড়!

আনসার, পুলিশ, বিডিআর, কারা পুলিশ কিংবা সৈনিক পদে অথবা সরকারি যে কোন দপ্তরের নিয়োগ বদলীর দালালীতে তার জুড়ি নেই। লাখ কিংবা কোটি টাকার তদবীর বাণিজ্য বাগাতে ওস্তাদ তিনি। তদবীরে ব্যর্থ হলেও ভুক্তভোগিদের প্রতিকারের দাবী থামাতে আছে তার নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী।
ভুক্ত ভোগিরা প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো নতুন বিপদের মুখে ফেলে দেন এই ভুয়া ডাক্তার বেলায়েত চৌধুরী ওরফে বেলায়েত হোসেন। এভাবে মিথ্যার তুতমা মেরে দিনকে তিনি বানিয়ে ফেলেন রাত। মুহুর্তের রূপ বদলে সাধু সাজেন অথবা ভয় দেখিয়ে পার পেয়ে যান। কারণ সঙ্গে থাকে তার বেশ কয়েকজন সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আইজিপি শুধু না দু একজন এসপি ডিসি তার পকেটে থাকে। জানা যায়, চাকরিতে বরখাস্ত সেই সব কর্মকর্তা যারা তার সঙ্গী তাদের যোগসাজসে পাতেন নতুন নতুন জালজালিয়াতির চত্রান্ত ফাদ। রমরমা চিটিং বানিজ্য এখন তার। চিটিংবাজদের গুরু ভাই খ্যাত বেলায়েত হোসেন দিনে কামান কোটি টাকা।

আমাদের প্রতিনিধিদের সাথে গত ৩০ আগষ্টের সাক্ষাতে রাজধানীর সাম্পান রেষ্টুরেন্টের তিনি বলেন, তিনি আসলে নীরিহ পরিবহন ব্যবসায়ি। ফোনে করে তানজিল পরিবহণের অসুস্থ্য এমডি জামালকে ফোনে ধরিয়ে দিয়ে নিজেবে তার ছোট ভাই পরিচয় দেন। যদিও জামাল তা স্বীকার করেননি। জানা যায়,এরই মধ্যে তিনি বাগিয়েছেন আন্তঃসিটি বাস সাভির্সের বেশ কয়েকটি রুটের বাস সার্ভিস। তানজিল পরিবহনসহ অনন্তত ৪টি পরিবহন কোম্পানীতে চলে তার শতাধিক বাস। আছে ল্যান্ড ডেভোলপমেন্টের ব্যবসা। হোটেল, সোসাইটি ক্লাব আর মদের বার, আড্ডাখানা, রিসোর্ট স্পা সেন্টারেরও মালিক হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী টিমের প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করেছেন এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, ষ্টার নিউজ, নিউজ টয়েন্টি ফোর, এবিসি টিভি, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক খবর, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক মুক্ত বাংলা, দৈনিক দিনের খবর, চলমান দেশ,পার্লামেন্ট ওয়াচ অপরাধবিষয়ক রিপোর্টার ও ক্রাইম নিউজ এজেন্সির একদল চৌকস সংবাদকর্মী। আর এই অনুসন্ধানী খবরের তথ্য নিয়ে তার সক্ষাতকারসহ বিশেষ আঢোজন তৈরি করছেন এটিএন বাংলার এক সময়ের বিশেষ প্রতিনিধি জনপ্রিয় ও তুখোড় টিভি সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আরিফ হোসেন। সে রিপোর্টসহ বিশেষ আয়োজনএবিসি টেলিভিশনের “জিরো ক্রাইম” এর বিশেষ পর্বে প্রচারিত হবে। চোখ রাখুন এবিসি টিভির পর্দায় জিরো ক্রাইম এর আয়োজনে। আমাদের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব “কে এই চিটিংবাজের গুরু ভাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভুয়া অফিসার বেলায়েত হোসেন।

বেলায়েত হোসেন নিজেকে কখনও বেলায়েত চৌধুরী কখনও বা হোসেন নামে পিএমও অফিসের মেডিক্যাল অফিসার বা চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। এই পরিচয় দিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল – বিএমডিসির যে রেজিষ্টেশন নম্বর বিএমডিসি এ ১৯২২৪ ব্যবহার করেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, বেলায়েত হোসেন কখনই কোন মেডিক্যাল কলেজে পড়েনি। ফলে BMDC রেজিষ্টেশন পাবার কোন সুযোগ নেই। তাহলে BMDC এর রেজিষ্টেশন নম্বর পেলেন কোথায় ?

বিএমডিসির রেজিষ্টেশন নম্বরটি ভুয়া নয়! তবে এই রেজষ্টেশন যেই ডাক্তার বেলায়েত হোসেনের তিনি ১৯৯০ সালে এমবিবিএস করেছেন। এই বেলায়েত হোসেন মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় থায়রয়েড কেয়ার এন্ড ডায়গনোষ্টিক সেন্টার নামের একটি ক্লিনিকে তিনি প্র্যাকটিস করেন।

এছাড়া ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জানা যায়, চিটিং বাজির গুরুভাই খ্যাত বেলায়েত হোসেন যে চিকিৎসকের রেজিষ্টেশন নম্বর ব্যবহার করে দুনম্বরী ডাক্তার হিসেবে নিজের নামে ব্যবহার করেন। সেই বেলায়েত হোসেন আসলে ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ।

তিনি আসলে জানেনই না বেলায়েত হোসেন ওরফে বেলায়েত চৌধুরী নামের অন্য কেউ তার বিএমডিসি রেজিষ্টেশন ব্যবহার করে মিথ্যা চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ধান্ধাবাজি করেন।
সুচতুর চিটিংবাজ কৌশলে নিজেকে শুধু পিএমও অফিসের মেডিক্যাল অফিসার পর্য়ি দিয়েই খ্যান্ত হননি।
আমাদের অনুসন্ধানের ব্যক্তিত্ব বেলায়েত হোসেন নিজেকে পরিচয় দেন হৃদ রোগ, মেডিসিন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। যা তার প্রফেশনাল ওয়েবসাইটে তিনি উল্লেখ করেছেন। একজন চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয়েরর পাশাপাশি তিনটি রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন তিনি!

একজন চিকিৎসক কি মাল্টি ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডিগ্রী নিতে পারেন কি না ? এমন বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, আসলে কোন ব্যক্তি চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রী অর্জন করে সামগ্রিক চিকিৎসার ওপর। তারপর হন তিনি বিশেষ একটি রোগ বিশেষজ্ঞ। বহু রোগ বা মাল্টি ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডিগ্রী নেবার সুযোগ নেই। যারা পরিচয় দেন তারা প্রতারক, চিট বা ঠক। এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমুলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর শাহ আযম শান্তুনু বলেন, ডিগ্রী শুধু ব্যবসার পণ্য নয়, এটি সম্মান। আর চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ মানে দক্ষতা। এখানে দুর্নীর্তির আশ্রয় গ্রহনকারিদের কঠোর শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। না হলে প্রকৃত শিক্ষানুরাগিরা নিরূৎসাহিত হবে।
আর আমাদের অনুসন্ধানের বিষয় বেলায়েত হোসেন বলেছেন, তিনি আসলে ডাক্তার নন। তিনি কখনই এরকম পরিচয় দেন না।
দিসি বলেন, রাজধানীর গুলশানে, মিরপুর ১ ও ২, উত্তরা, ধানমন্ডিতে গড়েছেন ১০টি বহুতল বাড়ি। আছে প্লট, ফ্লাট, ব্যাংক ব্যালেন্স। কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এই বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধাসে দেখা যায় তিনি পিএমও অফিসের মেডিক্যাল অফিসারের যে পরিচয় দিয়ে তার চিটিং সামরাজ্যের গুরু ভাই হয়েছেন তাকে পৃষ্টপোষকতা করছেন অনেক বড় বড় রাঘব বোয়াল। চিটিং কারবারে গুরু ভাই হিসেবে এই বেলায়েত হোরসনকে মাঠে রেখে তারা কলকাঠি নাড়ছেন পেছন থেকে।আগামী পর্বে থাকছে কারা আছেন চিটিংবাজির গুরু ভাই বেলায়েত হোসেনের পেছনে।
