এসএম জামাল ::

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রত্যন্ত মাটিতে বেড়ে ওঠা এক মেধাবী সন্তান আজ রাজধানী ঢাকার চিকিৎসাঙ্গনে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তিনি অধ্যাপক ডা. মো. আবু সায়েম। সার্জারি বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং জটিল অস্ত্রোপচারে দক্ষতার মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে রোগীদের আস্থা অর্জন করেছেন।

দৌলতপুরের মাটিতে জন্ম নেওয়া ডা. আবু সায়েম ছোটবেলা থেকেই ছিলেন পড়াশোনায় মনোযোগী। মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকেই চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। কঠোর অধ্যবসায় ও মেধার মাধ্যমে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন দক্ষ সার্জন হিসেবে।

তিনি MBBS, BCS (Health), FCPS (Surgery) এবং FACS (America) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর চিকিৎসাক্ষেত্রের বিশেষ দক্ষতার মধ্যে রয়েছে General Surgery, Laparoscopic Surgery, Colorectal Surgery এবং Cancer Surgery।

কর্মজীবনে তিনি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সার্জারি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসেবায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষ করে ক্যান্সার ও জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রোগীদের জন্য আশার জায়গা তৈরি করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীরা তাঁর পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিতে ঢাকায় আসেন। কুষ্টিয়ার মানুষও তাঁর কাছে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে একজন আপনজনকে পাশে পাওয়ার অনুভূতি পান।

দৌলতপুরের মতো একটি জনপদ থেকে উঠে এসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধা ও স্বপ্ন সুযোগ পেলে জাতীয় পর্যায়ে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।

শুধু পেশাগত পরিচয় নয়, নিজের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রেখেছেন ডা. আবু সায়েম। দৌলতপুরের মানুষ তাঁকে দেখেন নিজেদের এলাকার একজন কৃতী সন্তান হিসেবে। তাঁর সাফল্যে গর্বিত স্থানীয় মানুষও।

চিকিৎসা পেশা যেখানে শুধু একটি চাকরি নয়, মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দায়িত্ব, সেখানে দক্ষতা, সততা ও মানবিকতা একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয়। সেই জায়গায় ডা. আবু সায়েমের দীর্ঘ পথচলা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের।

দৌলতপুরের মাটি থেকে উঠে আসা এই চিকিৎসক আগামী দিনেও তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মানবিক চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের পাশে থাকবেন, এমন প্রত্যাশাই কুষ্টিয়াবাসীর।