ঢাকামঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম

ব্যাংকের আর্থিক সুরক্ষাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার রক্ষাকবচ

muktabangla
জুলাই ৭, ২০২৬ ৯:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো: ফজলুল ক‌রিম সেখ ::

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং পুরো অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। দেশের ব্যাংকিং খাতের গড় মূলধন পর্যাপ্ততা হার (CRAR) বর্তমানে নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।

অনেকের কাছে বিষয়টি হয়তো কেবল একটি ব্যাংকিং সূচক বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সিআরএআর হলো ব্যাংকের আর্থিক সুরক্ষার মাপকাঠি। খেলাপি ঋণ, আর্থিক ক্ষতি বা অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকের নিজস্ব যে সক্ষমতা থাকা দরকার, সেটিই এই সূচকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর সেই সক্ষমতাই এখন বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

এর ফলে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ প্রদানে আরও সতর্ক হতে পারে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন শিল্প স্থাপন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। বিনিয়োগের গতি কমে গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বাড়লে ঋণের সুদের হারও তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। ফলে ব্যবসার ব্যয় বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেই চাপ ভোক্তাদের ওপর এসে পড়ে। সাধারণ মানুষও গাড়ি ঋণ, গৃহঋণ বা ব্যবসায়িক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে পারেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ক্ষেত্রেও এটি একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ একটি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা দুর্বল হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে গেলে সরকারের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাত্র দুই বছর আগে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের গড় সিআরএআর ছিল ১১.৬৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে ৩.০৮ শতাংশে নেমে আসে এবং ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে পৌঁছে যায়। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাংকিং খাত তুলনামূলকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

🇮🇳 ভারত : ১৭.২%
🇵🇰 পাকিস্তান : ২০.৮%
🇱🇰 শ্রীলঙ্কা : ১৯.৪%
🇧🇩 বাংলাদেশ : -২.৬৪%

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা অনেক ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসায় ব্যাংকগুলোর বাস্তব আর্থিক অবস্থাও প্রকাশ পাচ্ছে।

তবে সব ব্যাংকের অবস্থা এক নয়। দেশের কিছু ব্যাংক এখনও আন্তর্জাতিক মানের মূলধন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। কিন্তু দুর্বল ব্যাংকগুলোর বড় ঘাটতি পুরো খাতের গড় অবস্থাকে নেতিবাচক করে তুলেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।