একজন সিক্সে পড়া মেয়ে কিভাবে মিনাপাল থেকে, নায়িকা কবরী হলেন – যখন ঘর থেকে মেয়েরা বাহিরে যেতো না?
১৯৬২ সাল তৎকালীন সময়ের একজন ঝড় তোলা কমেডিয়ান নাম তার সুভাষ দত্ত্। তার গ্রামের বাড়ী বগুড়া জেলা এবং নানীর বাড়ী দিনাজপুর জেলা। তার ছোট থেকে বড় হওয়া দিনাজপুর নানার বাড়ীতে।
এই বিখ্যাত কমেডিয়ান একজন প্রযোজক পেয়েছেন। তাই তিনি নিজেই পরিচালক হবেন এবং সেই সাথে তিনি নায়ক হবেন্। এখন তিনি সাইজে খাটো হওয়ার কারনে চলচ্চিত্রের কোন নায়িকা তার সঙ্গে কাজ করবেন না।
এই কথাটিতে আঘাত পেয়ে নুতন নায়িকা খুঁজতে থাকেন। পেয়ে যান চট্রগ্রামের সিক্সে পড়ুয়া এক হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়ে মিনাপালকে।
তার বাবা মার সঙ্গে কথাবার্তা বলে ফাইনাল করেন এবং ১৯৬৩ সালে ” সুতরাং ” ছবির স্যুটিং শুরু হয়। মিনাপাল থেকে তার নাম রাখেন নায়িকা কবরী। আর নায়ক হিসেবে তিনি সুভাষদত্ত নিজেই কাজ করা শুরু করলেন।
ছবিটি ১৯৬৪ সালে মুক্তি পেলো। আহা সমগ্র পাকিস্তানে ছবিটি সুপারহিট হলো । সেই সময়ে উর্দু আর বাংলা দুই ভাষার ছবির মধ্যে প্রচন্ড লড়াই হতো। সেখানে ” সুতরাং ” ছবিটি বিদেশে অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলো।
সেই থেকেই নায়িকা কবরীর শুধু সামনে চলা। আর ষাটের দশকে সুপারস্টার নায়িকা বনে গেলেন কবরী। যে সময়ে মেয়েরা ঘরের বাহিরে যেতে পারতো না। সে সময় কবরী নায়িকা হয়েছেন।
তার বর্নাঢ্য জীবনের ইতিহাস আমার মতো ক্ষুদ্র একজন চলচ্চিত্র পরিচালক লিখে শেষ করতে পারবো না।
আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।
# রবিউল ইসলাম রাজ চলচ্চিত্র পরিচালক

