আবির হাসান ::
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শো রুম খুলেছে তাঁত বাড়ি ফ্যাশন বাংলাদেশ। তৈরি পোশাকের নতুন ফ্যাশণ ব্রান্ড হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়াসহ ডিজিট্যাল প্লাটফরমে ব্যাপক প্রচারনার করছেন তারা। কিন্তু এই প্রচারনা কি ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য না জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধ করে মানুষকে সর্বশান্ত করার ? সে প্রশ্ন বিনিয়োগকারিদের। এরই মধ্যে অনন্তত ১০ কোটি বা তারও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই তাঁত বাড়ি ফ্যাশন বাংলাদেশ নামের ভুয়া ব্যবসায়ি চক্র।

হালে অভিযোগ উঠেছে,এই শো রুমে বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রলুদ্ধ করে হাতিয়ে।নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অভিযোগে জানা যায়, তাঁত বাড়ি ফ্যাশন বাংলাদেশের ওয়্যারির র্যাঙ্কিন স্ট্রীটের শোরুম ও ট্রেড লাইসেন্সের মালিক আসাদুজ্জামান। তিনি ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ গ্রহন করেন রাজধানীর গ্রীনরোড এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের কাছ থেকে। যে টাকার বার্ষিক মুনাফা ৪৭%-৫৭% দেবার কথা চুক্তিতে উল্লেখ করেন। টাকা গ্রহন করার প্রথম মাস থেকে ব্যবসায়িক মুনাফা দেবার কথা থাকলেও টাকার মুনাফা দেয়া দুরের কথা আসল টাকা ফেরত পেতেই ধন্না দিতে হচ্ছে দিনের পর দিন। শহীদুল ইসলাম জানান, গত বছর জুন মাসের ৪ তারিখে তার সাথে বিনিয়োগের এই চুক্তি করেন আসাদুজ্জামান। চুক্তিতে জামিনদার হিসেবে ১০ লাখ টাকার সিকিউরিট চেক ও দেন তাঁত বাড়ি ফ্যাশন বাংলাদেশ এর প্রোপাইটর আসাদুজ্জাামানের স্ত্রী তাসলিমা জামান।

চুক্তি অনুযায়ি প্রতিমাসে মুনাফার টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও সে শর্ত মানছে না আসাদুজ্জামান। এক বছর ৪ মাস সময় পার হলেও কোন রকম শর্ত মানছে না তারা। মুসাফার প্রায় ৯ লাখ টাকা পাওয়া দুরের বিনিয়োগের আসল ১০ লাখ টাকা পাবার জন্য ধন্না দিতে হচ্ছে। শুধু শহীদুল ইসলাম নন এরকম কয়েকশো বিনিয়োগকারি মুনাফার সময় পার হলেও কোন মুনাফা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করে ধন্না দিচ্ছেন তাঁত বাড়ি ফ্যাশন বাংলাদেশের শো রুমে।
এ ব্যাপারে তাঁত বাড়ি ফ্যাশন বাংলাদেশ এর মালিক আসাদুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল তিনি কল রিসিভ করেননি। কথা বলার জন্য টেক্সট করা হলে তিনি উত্তর দেননি। এমনকি তার পক্ষে জামিনদার তাসলিমা জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন। এবিসি টিভি, দৈনিক মুক্ত বাংলা ও চলমান দেশ পত্রিকার এই প্রতিবেদক ত্রয় ওয়ারীর র্যাঙ্কিন স্ট্রীটের শো রুমে যোগাযোগ করলেও মালিক আসাদুজ্জামান শো রুমে আসেন না বলে কমর্চারীরা জানান। তবে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারিকে ২১ অক্টোবর রাত অবধি শো রুমএলাকায় অপেকক্ষা করতে দেখা যায়। তারা জানান, লাভের কথা বলে বিনিয়োগ করিয়েছে। এখন লাভ দেয়া তো দুরের কথা, বিনিয়োগের আসল টাকাই ফেরত মিলছে না।
এখন তারা কার কাছে বিচার দিলে এই টাকা ফেরত পাবেন জানেন না। কার কাছে বিচার দেবেন।

