অমিতাভ কাঞ্চন ::
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন কাটছেই না। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুতেই ধসে পড়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়েছে মাত্র ১৬০ রানে। পরে ৭ উইকেট হাতে রেখে ৮৭ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান। এই হারে বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার আশা বড় ধাক্কা খেল।
বৃহস্পতিবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। শুরুটা ভালো করার প্রত্যাশা থাকলেও দ্বিতীয় ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। নতুন বলে ইয়ামিন আহমাদজাই ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার।
তানজিদ হাসানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে শুরুটা করেন ইয়ামিন। পরের বলেই অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত তিনটি বাউন্ডারি মেরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৫ রান করে ওমারজাইয়ের বলে আউট হন তিনি। ওই ওভারেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক হৃদয়ও।
৭ ওভার শেষে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনের ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় দল। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের জুটিতে বাংলাদেশের রান পেরিয়ে যায় ১২০। ৭৫ বলে ফিফটি তুলে নেন পারভেজ, ওয়ানডেতে এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতক।
তবে ৪১ রান করা সাইফ মোহাম্মদ নবির বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হলে আবারও বিপর্যয় নামে। পরের ওভারেই ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এরপর বাকি কাজটা করেন রশিদ খান। প্রথম দিকে উইকেট না পেলেও পরে তাঁর ঘূর্ণিতে একের পর এক ব্যাটসম্যান ফিরে যান। শরিফুল ইসলামকে বোল্ড করার পর পারভেজকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। পরে অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে টানা দুই বলে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন রশিদ। ৭০ রান করে পারভেজই ছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। রশিদ ৩১ রানে নেন ৪ উইকেট। ওমারজাই ও ইয়ামিনের শিকার ২টি করে উইকেট।
জবাবে ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। তাসকিন আহমেদ দ্রুত ফিরিয়ে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আটালকে। তবে তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও রেহমত শাহর ৫৬ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আফগানিস্তান।
৩৪ রান করা ইব্রাহিমকে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে দারুণ ক্যাচে ফেরান শান্ত। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি রেহমত ও হাশমাতউল্লাহ শহিদি। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতে সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন রেহমত, শহিদির সংগ্রহ ৩৩ রান।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন নেন ২ উইকেট, মুস্তাফিজের শিকার ১টি। ওয়ানডে অভিষেকে বল হাতে ৪৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন আলিস আল ইসলাম।
বিশ্বকাপের আর এক বছরও বাকি নেই। এমন সময়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের প্রস্তুতি ও সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪১.২ ওভারে ১৬০ (পারভেজ ৭০, সাইফ ৪১, শান্ত ১৫; রশিদ ৪/৩১, ওমারজাই ২/২৭, ইয়ামিন ২/২১)।
আফগানিস্তান: ৩৫.৩ ওভারে ১৬৩/৩ (রেহমত ৬৭*, ইব্রাহিম ৩৪, শহিদি ৩৩*; তাসকিন ২/৩৬, মুস্তাফিজ ১/৩২)

