মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরা প্রতিবেদক::
সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে এক সময় চিংড়ি ঘেরের ভেড়ি অনাবাদি পড়ে থাকত। সেই ভেড়িতেই এখন অসময়ের তরমুজ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন শতাধিক কৃষক। কৃষি বিভাগের সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি ও তৃপ্তি সহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ করছেন তারা। দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরের ভেড়িতে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ। যে জমিতে আগে কোনো ফসল হতো না, সেখানে এখন তরমুজের পাশা পাশি উচ্ছে, ঢেঁড়স, শিম, কুমড়া, বরবটি ও শসার মতো সবজিও চাষ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তারা এ ধরনের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এক সময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন তাদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
কৃষি বিভাগের এসএসসিপি প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশা পাশি নগদ আয়ও বাড়ছে।
এ উদ্যোগে নারীরাও যুক্ত হয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে মাছ চাষের পাশা পাশি তরমুজ ও সবজি উৎপাদনে অংশ নিয়ে তারা পারিবারিক আয়ে ভূমিকা রাখছেন। দেবহাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৭ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজের আবাদ হয়েছে। কুলিয়া ইউনিয়নের এ এলাকায় শতাধিক কৃষক একই ভেড়িতে দুই থেকে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন।
কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার মণ্ডল বলেন, এ উদ্যোগ উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে ইতি বাচক ভূমিকা রাখছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাছের ঘেরের ভেড়ি ও পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনায় একই জমি থেকে বাড়তি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

