নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দীর্ঘদিন অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের সঙ্গে সাহস, ধৈর্য ও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করে ১৩ আগস্ট ২০২৬ মহাজাগতিক সফরে যাত্রা করেন মো. ফাফরুল আলম ভূঁইয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। কর্মজীবনে তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা ও দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব কাজীপাড়ায় তিনি বসবাস করতেন।
মরহুমের ওযু, গোসল ও প্রথম জানাজার আনুষ্ঠানিকতা কাকরাইল হাম্মামে যথাযথ সম্মান, মর্যাদা, যত্ন ও আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। তার আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের সদস্যরাও জানাজায় অংশ নেন এবং প্রিয় মানুষটির শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা এবং নিজ গ্রামের বাড়ি লুধুয়া ভূঁইয়া বাড়ি, রায়পুর, লক্ষ্মীপুরে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে তার পিতা মরহুম প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার পাশে সমাহিত করা হয়।
শিক্ষাজীবন থেকেই জাফরুল আলম ভূঁইয়া ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিভাবান। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় কায়কোবাদ স্যারের ছাত্র। তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় তিনি ঢাকা বোর্ডে ১৭তম স্থান অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা শেষে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনেও তিনি তার মেধা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় রেখেছেন। তিনি তিতাস গ্যাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছেন জাফরুল আলম ভূঁইয়া। এই দীর্ঘ ও কঠিন সময়ে তিনি অসাধারণ সাহস, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। তার অনকোলজিস্ট অধ্যাপক লে. কর্নেল ডা. মো মোফাজ্জল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে চিকিৎসা শুরু করার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয় বছরেরও বেশি সময় অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত।
সেই বিবেচনায় জাফরুল আলম ভূঁইয়ার দীর্ঘ এই লড়াই ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। চিকিৎসার পাশাপাশি তার দৃঢ় মানসিকতা, পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা এবং অসংখ্য মানুষের দোয়া তার এই দীর্ঘ যাত্রায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাফরুল আলম ভূঁইয়ার চলে যাওয়া তার পরিবার, স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য গভীর বেদনার।
একজন মানুষের শেষ যাত্রায় সম্মান, যত্ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই কাকরাইল হাম্মামে মরহুমের ওযু, গোসল, জানাজা এবং শেষ বিদায়ের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতাগুলো সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, যত্ন ও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমরা তার অনন্ত প্রশান্তি কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তার সকল গুনাহ-খাতা ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।
শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।
# সডে/শাআনি

