নিশির মনসুর ::
সরবরাহ একই থাকার পরও শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মূল্য সহনীয় রাখতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠক করে সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিবর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটকালীন ও পরে একই অবস্থা থাকার পরেও শুধু দাম বাড়ায় সংকট কীভাবে নিরসন হয়েছে- তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দিতে সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন েএবং উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে জ্বালানি তেলের সংকট ও পাম্পে তেল সরবরাহ কমার অভিযোগে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। মাঝরাতে পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি অনেক চালক। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পেই ওই সময় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এরপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিপিসি। দাম বাড়ানোর পরপরই পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

