ঢাকাশুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম ও ধর্ম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গন মাধ‌্যম ও সাংবা‌দিকতা

সৌদি আরবে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার না‌মের ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

muktabangla
অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিয়ামত শেখ ::

সৌদি আরবে দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সে দেশের সরকার। তাদের নাম যথাক্রমে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদি সরকারের বক্তব্য― ‘তাঁরা মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হয়েছিলেন এবং মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছিলেন।‘ কিন্তু মসজিদের নাম, ‘অনৈতিক’ বলতে কোন ধরণের কী করেছিলেন তার বিবরণ নেই, অথচ দ্রুত গতিতে গ্রেপ্তার,তদন্ত,অভিযোগ গঠন শেষে রায় এবং রাজকীয় আদেশ বাস্তবায়ন সম্পন্ন।সৌদি সরকারের এই ‘শিরোচ্ছেদ’-এরও নিয়ম আছে। সব অপরাধে এই বিচার নেই। এদেরকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সেটাই বাংলাদেশ বাদে অন্য কোনও শক্তিশালী প্রশাসনের দেশ হলে এই রায় হতো না এটা নিশ্চিত। এরকম যথেষ্ট প্রমাণ আছে অন্তর্জালে।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটও কিচ্ছু জানে না বলছে। হয়ত সত্যিই জানে না, নয়ত জেনেও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা নাকি পরে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নোট ভারবাল পাঠিয়ে ঘটনার ‘আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি’ চেয়েছেন। অর্থাৎ দুজন নাগরিকের মৃত্যুর পর তারা ‘নোট ভারবাল’ দিচ্ছে! এরাই দেশের কষ্টার্জিত টাকা থেকে মোটা মাইনে নিয়ে রাজকীয় কেতায় চাকরি করেন!
এই ঘটনার ভিডিও ধারনকারী পাকিস্তানির প্রসঙ্গটা থাকুক। আমরা এবার গোড়ার দিককার কিছু ঘটনা দেখে আসি―

সৌদি আরব থেকে প্রতি বছর ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মী দেশে ফেরত এসেছিলেন ২০১৯ সালের দিকে। আর যারা নিহত হতেন তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বলা হতো স্ট্রোক বা আত্মহত্যা তাদের মৃত্যুর কারণ। এদের লাশের ময়নাতদন্ত হয় না। এসব নিয়ে এক সময় প্রচুর লেখালিখি হতো। আমি নিজেও পত্রিকায় কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি কলাম লিখেছি ২০১৭-১৮ এবং ১৯ সালে। তারও আগে লেখালিখির কারণে ২০০৯ থেকে ২০১৪ এই পাঁচ বছর বাংলাদেশের প্রধান শ্রম বাজার সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর শর্তে পুরুষ শ্রমিকের বাজার খোলে।

ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা,ইন্দোনেশিয়ার মত দেশগুলো সেসময় থেকেই সৌদি সমাজে নারী গৃহকর্মী হিসেবে কাজে গেলে অল্প বেতনে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি এবং শারিরীক- মানসিক নির্যাতনের ব্যাপক অভিযোগ সম্পর্কে কথা তুলে সৌদি সরকারকে বিভিন্ন শর্ত দেয়। সৌদি শর্ত না মানায় ওই দেশগুলো নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করার পর বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক নেওয়া ছাড়া সৌদির গন্তব্য ছিল না। সেসময় আমলারা ডলারের লোভে যেনতেনভাবে নারী শ্রমিকদের কয়েকদিনের তথাকথিত ‘ট্রেনিং’ দিয়ে সৌদিতে ঠেলে পাঠাতে শুরু করে। সেই ধারা এখন আরও বেগবান।

২০২১ সালের এক হিসাবে সৌদি আরবে মোট বাংলাদেশি নিহত নারী শ্রমিকদের সংখ্যা ৮০০ হলে আমাদের ‘শিক্ষিত রেমিটেন্সলোভী’ আমলা গ্যাং সরকারের সহায়তায় খানিকটা ট্যাঁ-পোঁ করে। শর্ত দিতে চায়। ভাবখানা এমন যে ‘তোমরা এমন করলে আমরা কিন্তু আর নারী পাঠাব না’! তা বললে কি ‘প্রভুর’ মন গলবে? তাদের ধনাঢ্যদের তো প্রতি রাতেই নতুন নতুন ‘জিনিস’ লাগবে! তারাও উল্টে শর্ত দিল―’নারী শ্রমিক না পাঠালে পুরুষ শ্রমিক নেওয়া হবে না।‘ ব্যাস! বাঙালির মর্দানি নেতিয়ে ঢেকি শাক।

সে সময় কোনো কোনো সরকারি কর্মকর্তারা খুব খেপে গিয়ে বাংলাদেশের নারীর ‘সম্ভ্রমের’ বিনিময়ে এই রেমিট্যান্স চাইনা,নারীর সৌদি যাত্রা বন্ধ হোক’ টাইপ হ্যাডম দেখিয়ে আবারও সেই নারী কেন ম্যান্ডেটরি সেই শর্তে এসে পরাজয় স্বীকার করে, কারণ আমাদের ডলার চাই।

তার পরও ২০০৭ সালে এক পাকিস্তানি বাংলাদেশ নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করায় ৬ বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আরব আমিরাত সরকার। ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় বাংলাদেশি শ্রমিককে মুক্ত করতে ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ‘ব্লাডমানি’ দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। তারা মুক্তি পেয়েছিল।

প্রবাসে বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। তখন সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে অনেকর প্রাণ বাঁচিয়েছে। এখন যারা সরকারে আছেন তাদের অ্যান্টেনায় এইসব সস্তা ‘দুটাকার শ্রমিক’-এর কোনো ফেসভ্যালু নেই। তারা ভীষণ রাগে, অস্থির বেগে, হুমকিযোগে মহাজন ইনুসের তথাকথিত ‘মানসম্মান হানী’র ঘটনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘অপরাধীদের’ কঠিনতম শাস্তি দিতে চান।এই দুজন শ্রমিকের মৃত্যুর নিয়ে হাহাকারের চেয়ে নির্মম সত্য হচ্ছে বাংলাদেশ কেন সৌদির ‘নারী না দিলে পুরুষ নেব না’ শর্ত মানবে? শ্রমিক না পাঠালে ডলার আসবে কোত্থেকে? ঠিক। তাহলে যারা ডলার না পাঠালে কর্মচারিদের বেতন দিতে পারেন না, তাদের পাশে কে দাঁড়াবে? পাবলিক? না কোটি ট্যাকা ব্যয় করে পোষা দূতাবাসের কর্মকর্তারা? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সরকারকেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।