ঢাকাসোমবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ-দুর্নী‌তি-আইন শৃংখলা
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম ও ধর্ম
  9. এবি‌সি টি‌ভি
  10. কর্পোরেট
  11. কৃষি
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গন মাধ‌্যম ও সাংবা‌দিকতা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাভারে ধর্ষণ মামলার আসামি তিনদিনেও গ্রেফতার হয়নি : কাউন্টার মামলায় আসামি বাদী

muktabangla
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 গত বুধবার রাতে  ১৩ বছরের এক ছাত্রী ধর্ষন  ঘটনায় এলাকাবাসীর মাদ্রাসা ভাঙচুর ও জনতার রোষানলে পড়ে মাওলানা পালিয়ে  যান। এ সময় তার স্ত্রী ও ১২ বছরের সন্তানকে আটক করে থানায় নিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।কয়েকজন ছাত্রীকে ধর্ষণে সহযোগিতা করার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ। এই ঘটনার পর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে ধর্ষিতার স্বজনদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতে ধর্ষতার পরিবার ও ধর্ষন মামলার বাদির বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মামলা গ্রহন করেছে সাভার মডেল থানার পুলিশ। মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীকে ৭৭ লাখ টাকা লুটের মামলার আসামি করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক।এ নিয়ে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
 সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররাফ হোসেন সোমবার জানান, মাদ্রাসার মালিক মাওলানা আব্দুল বারী ও তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গত বুধবার রাতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদ্রাসার পরিচালক ধর্ষকের স্ত্রীকে ধর্ষনের সহযোগী হিসেবে গ্রেফতার করা হলেও মুল আসামি মাওলানা আব্দুল বারী পলাতক আছেন। তিনি বলেন,  বাদির বিরুদ্ধে মামলা নিতে না চাইলেও উপরের মহলের চাপে মামলা নিতে পুলিশকে বাধ্য করা হয়েছে। তবে তদন্ত না করে আপাতত বাদীপক্ষের কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
জানা যায়, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে ঐ ছাত্রীর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে ও ছাত্রীকে মাওলানার বেড রুম থেকে নগ্নভাবে উদ্ধার করে জনতা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ধর্ষিতার তথ্যনুযায়ী এ ঘটনায় তার স্ত্রীও সহযোগিতা করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তের স্ত্রীও ছাত্রীদের তার স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে মাওলানা আব্দুল বারী পলাতক রয়েছেন।
  এদিকে রবিবার  সকাল ১১ টায় সভারের বিরুলিয়ায় ঐ মাদরাসা পরিদর্শনে  সাভারে আসেন হেফাজত ও বাংলাদেশ কাওমি মাদ্রাসার মহাসচিব।
তারা পরিদর্শন কালে বলেন, একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাভারের বিরুলিয়ার ছোট কালিয়াকৈর গ্রামের তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায় শতাব্দীর নিকৃষ্টতম হামলা, ভাংচুর, লুটতরাজ এবং পর্দাশীল নারীদের হেনস্থার প্রতিবাদে করণীয় নির্ধারণে মাদরাসা পরিদর্শনে আসেন হেফাজত মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা সাজিদুর রহমান দা.বা. ও বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক দা.বা.। হেফাজত এবং বেফাকের অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন এই কাফেলায়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমনের বিষয়টি অবগতকরণ এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার জন্য হেফাজত ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম নেতৃত্বে তাদের একটি কাফেলা  সাভার মডেল থানার ওসি  সাইফুল আলম সাথে আজ দুপুরে স্বাক্ষাত করেন। তারা বলেন,ব্যক্তি অপরাধ করলে অবশ্যই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু ব্যক্তির দোষের কারণে মসজিদ মাদরাসায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট সমর্থনযোগ্য নয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় নাম উল্লেখ করা ছয়জনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বাদী ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বয়স্ক দাদাও রয়েছেন। ওপর মহলের চাপে এবং বাদীর ইচ্ছা অনুযায়ী ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলাটি নথিভুক্ত করতে হয়েছে পুলিশকে।
ধর্ষণ মামলার বাদীকে লুটপাটের মামলায় আসামি করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার বাদীকে আমরা মাদ্রাসায় লুটপাটের মামলায় আসামি করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে আসামি করবে। আমরা তদন্ত ছাড়া তাকে গ্রেফতার করবো না।’
নতুন মামলার বাদী মো. উমায়ের নিজেকে মাদ্রাসার পরিচালনা সহকারী দাবি করেন। তার ভাষ্য, তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ওই রাতে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
মো. উমায়ের বলেন, ‘ধর্ষণের যে মামলাটি করা হয়েছে, সেটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ওই রাতে আমাদের মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ৭৭ লাখ টাকার মালামাল মাদ্রাসা থেকে লুট করা হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসা ভাঙচুর করে আরও কোটি টাকার ওপরে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।’ গত কয়েক বছর ধরে একটি পক্ষ মাদ্রাসার জায়গাজমি লুটপাটের চেষ্টা করছিল বলেও দাবি করেন উমায়ের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।