ঢাকাসোমবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ-দুর্নী‌তি-আইন শৃংখলা
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম ও ধর্ম
  9. এবি‌সি টি‌ভি
  10. কর্পোরেট
  11. কৃষি
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গন মাধ‌্যম ও সাংবা‌দিকতা

এফবিসিসিআই নির্বাচন ক‌বে হ‌বে

muktabangla
অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

আরিফ নি‌শির, মা‌জেদুর রহমান ও ডিএস মাহফুজা হো‌সেন মিতা ::

দে‌শের ব‌্যবসা‌য়ি‌দের শীর্ষ সংগঠন ফেডা‌রেশন অব বাংলা‌দেশ চেম্বার অব কর্মার্স এন্ড ইন্ডা‌ষ্ট্রিজ- এফ‌বি‌সিসিআই এর নির্বাচন নেই দু বছর পে‌ড়ি‌য়ে তিন বছর। এখন

প্রশাসক আসেন, প্রশাসক যান; একটু এগিয়ে আবার পিছিয়ে যায় নির্বাচন। এভাবেই চলছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। জুলাই বিপ্লবে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের ধামাধরা ব্যবসায়ী নেতাদের পদত্যাগে বাধ্য ও পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দুবছর পার হলেও এখনো প্রশাসক দিয়েই চলছে সংগঠনটি। বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। এ অবস্থায় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজেই বেগ পেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সে কারণে আনুষঙ্গিক কাজ এগিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর থেকে এখন পর্যন্ত এফবিসিসিআইতে মোট তিনজন প্রশাসক দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন এবং একজন বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম প্রশাসক হিসেবে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিয়োগ পান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান। এরপর তিন দফা ১২০ দিন করে মেয়াদে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে দায়িত্বে রাখা হয়। তবে আদালতে রিট ও মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সে সময় এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি।

হাফিজুর রহমানের পর প্রায় দেড় মাস পদটি শূন্য থাকলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব পান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ও অতিরিক্ত দায়িত্বের বাণিজ্য সচিব আবদুর রহিম খান। তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। পরে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একজন ব্যবসায়ী নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি ওঠে। এরই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি এবং প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি ২০২৬ সালের ২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা কমিটির সহযোগিতায় এফবিসিসিআইয়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নির্বাচন বিলম্বিত কেন 

এফবিসিসিআই ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক হিসেবে হাফিজুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কারের উদ্যোগ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। কিন্তু সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সংস্কার, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচন বোর্ড গঠন নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা ও প্যানেলের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী পক্ষগুলো উচ্চ আদালতে একাধিক রিট ও মামলা করে এবং আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ থমকে যায়।

এ ছাড়া বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংস্কার নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। এফবিসিসিআইয়ের আগের পরিচালনা পর্ষদ ছিল বিশাল (৮০ সদস্যের), যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশের আপত্তিও ছিল। এ কারণে জুলাই বিপ্লবের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধন করার উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়, যার মাধ্যমে এফবিসিসিআই পর্ষদের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৪৮ জনে নামানো, মনোনীত পরিচালক প্রথা এবং নির্বাচনি নিয়ম কঠোর করার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হয়। এই দীর্ঘ সরকারি ও আইনি নীতিমালার সংস্কার কার্যক্রম শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়; যার ফলে প্রশাসকের নির্ধারিত এক বছর মেয়াদ পার হয়ে গেলেও ভোট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ীদের মতে, সংস্কার যেটুকু হয়, সেগুলোও আবার পিছিয়ে যায়; ফলে পিছিয়ে যায় নির্বাচনও।

এ ছাড়া জুলাই বিপ্লবের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পদেও দুবার পরিবর্তন এসেছে। সবশেষ গত ১৮ অক্টোবর এক বড় প্রশাসনিক রদবদলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলি এবং একই দিনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

৫ আগস্টের পর এফবিসিসিআই পর্ষদ ভাঙার দাবি ও প্রশাসক নিয়োগ

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাস’ আখ্যায়িত করেন পতিত আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করা ব্যবসায়ী নেতারা। যাদের বড় অংশ ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান। ২০২৪ সালের ২২ জুলাই গণভবনে ব্যবসায়ী নেতারা ছাত্র-জনতার তৎকালীন আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে তারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন। তাদের কেউ কেউ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমৃত্যু থাকার কথাও বলেন। পরিবর্তিত বাংলাদেশে এমন ব্যক্তিদের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃস্থানীয় পদে থাকার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংস্কারপ্রত্যাশী ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নেতৃত্বকে কুক্ষিগত ও চরম মাত্রায় দলীয়করণের অভিযোগ ছিল। সে কারণে জুলাই বিপ্লবের পর এমন নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকার নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্যবসায়ীরা। এর বিপরীতে কোনো ব্যক্তি বা দলের লেজুড়বৃত্তি না করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করবে এমন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তোলেন তারা। দাবির মুখে তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক আদেশের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের ৮০ সদস্যের নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

নির্বাচন ক‌বে হ‌বে

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসক ফজলুল হককে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের (১২০ দিন) মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ২ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর তার দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা।

নির্বাচনি তফসিলের বিষয়ে বাণিজ্য সংগঠন আইনের বিধিমালায় বলা আছে, নির্বাচনি বোর্ড ও কমিশন নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখের অন্তত ৮০ দিন আগে তফসিল জারি করবে। এরপর প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটার তালিকার নাম অন্তর্ভুক্তি ও বাতিলের বিষয়ে আপত্তি গ্রহণ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র দাখিল, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপিল বোর্ডে আপিল, বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা—সব ধাপ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে। সে হিসেবে আগামী জানুয়ারিতেও নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনি বিধিমালাটি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর গেজেট আকারে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বিধিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার উপর নির্ভর করছে নির্বাচন কবে হতে পারে।

জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের চেয়ারম্যান (লিয়াজোঁ অ্যান্ড মিডিয়া) আতিকুর রহমান বলেন, নতুন বিধিমালার সংশোধনী এখন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগে রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে এটি সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমাদের আপত্তি জানিয়েছি। বিশেষ করে ঋণখেলাপিদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি আরো বলেন, বিধিমালায় অনেক কিছুই উল্টাপাল্টা করে ফেলা হয়েছে। আমি এখন চাই নির্বাচনটি হোক। বিষয়টি নিয়ে আমি নীরবে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচন হয়ে গেলে যেসব পরিবর্তন করা হয়েছে, সেগুলো আবার ঠিক করার সুযোগ থাকবে। বিধিমালার বেশকিছু জায়গা ঠিক আছে; কিন্তু কিছু জায়গায় বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে।

নির্বাচনের সময়সীমার বিষয়ে এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে সবকিছু এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রস্তুত। এখন বিধিমালাটি যেকোনো দিন চূড়ান্ত হতে পারে। বিধিমালাটি হাতে পেতে কতদিন লাগবে, তা নির্ভর করবে প্রক্রিয়ার ওপর। তবে বিধিমালা হাতে পাওয়ার পর আমাদের ১০০ দিন সময় লাগবে।

বি‌ধিমালা চুড়ান্ত করন ক‌বে হয সে‌টির ওপর নির্ভর কর‌ছে ব‌্যবা‌য়ি‌দের শীর্ষ সংগঠ‌ণের নির্বাচন।

 

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।